Latest news

স্কুল-মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যের কাছে জিম্মি শিক্ষার্থীরা

বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ | 460 বার

আগষ্ট ২০২০
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« জুলাই    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
স্কুল-মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যের কাছে জিম্মি শিক্ষার্থীরা

ফাইলবন্দি হয়ে আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধের নীতিমালা। কোচিং বাণিজ্যে জড়িত শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে শিক্ষার্থী ও অভিবাবকরা।

২০১২ সলের ২০ জুন শিক্ষা মন্ত্রনালয় প্রণীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোচিং বাণিজ্য বন্ধের নীতিমালা তৈরি করলেও এখন পর্যন্ত কোন পর্যবেক্ষন কমিটি গঠন করা হয়নি। এদিকে নারায়নগঞ্জের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্য করে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা। তারা শেণীতে যথাযথ পাঠদান না দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত কোচিংয়ের দিকে ধাবিত করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এমন কোচিং বাণিজ্যের কারণে অভিভাবক ও সচেতন মহলের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রয়া দেখা দিয়েছে।
জেলার বিভিন্ন স্কুলগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় অবাধে এই কোচিং বাণিজ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। না’গঞ্জ সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত স্কুলে বসে থাকলেও ক্লাস হয়না। ইংরেজি শিক্ষক শওকত, মহিলা শিক্ষিকা বিলকিস, অংক শিক্ষক মাহবুব সহ আরো অনেক শিক্ষক কোচিং না করলে সাময়িক বা বার্ষিক পরীক্ষায় প্রাপÍ নম্বরের চেয়ে কম নম্বর দিয়ে থাকে নতুবা পরীক্ষায় অনুত্তীর্ন করার হুমকি দিয়ে থাকেন।
অভিভাবকরা অভিযোগ করেন যদি শিক্ষার্থীরা নিয়মিত কোচিং না করে তাহলে মাঝে মাঝে তাদের সাথে অমানবিক আচরণ করে শিক্ষকরা। মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের এমন আচরণ শিক্ষার্থীদের উপর মারাত্ত্বক প্রভাব ফেলে । অভিভাবকরা বলেন, অধিক অর্থ লোভের জন্য করানো হচ্ছে কোচিং। এই সকল লোভী শিক্ষকদের জন্য দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বদনাম ছড়িয়ে যাচ্ছে আর পূর্ণ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। যার প্রেক্ষিতে শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিবাবকরা।
শ্রেণীকক্ষে মনযোগ না দিয়ে শিক্ষকরা অবাধে করে যাচ্ছে কোচিং বাণিজ্য। এই অভিযোগের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে না’গঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা  জানান, শিক্ষকদের নিজেদের কোচিং সেন্টার থাকার কারণে তারা শেণীকক্ষে সময় কম দিয়ে থাকেন। যার ফলে অভিবাবকরা বাধ্য হয়ে কোচিং সেন্টারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অনেক বিত্ত্ববান অভিভাবকরা স্কুলে মেয়েদের না পাঠিয়ে শুধু কোচিং সেন্টারে পাঠান। কিন্তু তারা জানেনা যে, এর কারনে তাদের সন্তানদের কত ক্ষতি হচ্ছে।
তবে আপনার স্কুলে শিক্ষার্থীদের কোচিং পড়ার জন্য বাধ্য করছেন শিক্ষকরা কেন? তাদের ব্যাপারে কি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ইতি মধ্যে অভিভাবক এবং শিক্ষকদের সাথে অলোচনায় বসেছি ও শিক্ষকদের সর্তক করে দিয়েছি যাতে করে শ্রেনীকক্ষে শিক্ষকরা ঠিক মত পাঠদান করিয়ে থাকেন। আরো বিভিন্ন প্রদক্ষেপ গ্রহন করেছি, সরকার অনুমোদিত দুই শত টাকা করে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু দিনে দিনে ছাত্রীরা সেখানে ক্লাস না করে কোচিংয়ে চলে যাওয়ায় তা ফলপ্রসু হচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, তার একার পক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের কোচিং সেন্টারের প্রতি নির্ভরশীল হওয়া বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। শিক্ষকরা অনেক বছর ধরে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করার ফলে তাদের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিতে গেলে উল্টো তার উপর দোষ চাপানো হয়। তিনিও রীতিমত শিক্ষকদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন।
কাশীপুর দেওভোগ হাজী উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাত্র-ছাত্রী কোচিং করার জন্য বাধ্য করে যাচ্ছেন। স্কুলের বেতনতো দিতে হচ্ছেই ,সাথে সাথে কোচিংয়ের জন্য প্রতিমাসে আরো অতিরিক্ত ৬০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এর ফলে সামর্থবান শিক্ষার্থীরা দিতে পারলেও চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে গরীব শিক্ষার্থীরা।
এ ব্যাপারে হাজী উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার সাহা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করে লাইভ নারায়নগঞ্জকে জানান, তাদের স্কুলে কোন কোচিং করানো হয়না। আর উক্ত স্কুলের শিক্ষকদের নিজস্ব কোন কোচিং সেন্টার নেই। তবে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ মিথ্যা কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে উত্তম সাহা কথা এড়িয়ে বলেন, শুধু ভালো ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে কোচিং করনো হয়। যার সামর্থ্য আছে সেই করে, যার নেই সে করে না। শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক ক্লাস শেষে যদি প্রয়োজন হয় তাহলে অতিরিক্ত ক্লাস নেয়ার জন্য জনপ্রতি ২’শ টাকা করে মাসিক বেতন নেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আপনারা ৬’শ টাকা করে কেন নিচ্ছেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি কথা এড়িয়ে যান।
এছাড়া স্কুল সমূহের পাশাপাশি ধর্ম প্রতিষ্ঠানগুলোতেও চলছে কোচিং বাণিজ্যের মত কালো ছাঁয়া। ফতুল্লাস্থ রওজাতুস সালেহীন মাদ্রাসায়ও দেখা গেছে একই চিত্র। অভিবাবকদের অভিযোগ মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা পড়ে ধর্ম শিক্ষায় শিক্ষিত ভালো মানুষ হয়ে জাতিকে ইসলামের আওতায় আনার জন্য। কিন্তু মাদ্রাসার মধ্যেও হচ্ছে বিভিন্ন দূর্ণীতি।  ক্লাসে শিক্ষকরা ঠিকমত পাঠদান না করিয়ে কোচিং করার জন্য আগ্রহী করে তোলেন। অন্যথায় পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা যাবেনা বলে জোর করে কোচিংয়ের জন্য বাধ্য করা হয়।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আব্দুস শাকুর মোল্লা কোচিংয়ের কথা স্বীকার করে  বলেন, এটা কোন কোচিং না, এইটা ক্লাস শেষে অতিরিক্ত পাঠদান। যারা শ্রেণীতে ঠিকমতো ক্লাস করেনা বা শ্রেণী পাঠদানের সময় মনযোগ দিতে পারেনা তাদের সহ সকলকে নিয়ে এই কোচিং করানো হয়। তাহলে কেন ক্লাসে উপস্থিত না হয়েও কোচিংয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা আর কেনইবা ক্লাসে মনযোগ দিতে পারছেনা ছাত্র-ছাত্রীরা। তাহলে এটাকি শিক্ষকদের অদক্ষতার প্রমান নাকি কোচিংয়ে পড়ানোর জন্য আগ্রহী করে তোলার কোন পদ্ধতি ? এমন প্রশ্নের কোন সঠিক জবাব দিতে পারেনি প্রিন্সিপাল। তাছাড়া সরকার নির্ধারিত ২০০ টাকার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৬০০ টাকা করে কেন নিচ্ছেন। এটা কি শিক্ষার্থীদের উপর জুলুম করা হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নে উড়িয়ে দিয়ে প্রিন্সিপাল বলেন কোন জুলুম করা হচ্ছেনা।
শ্রেনীকক্ষে পাঠদানের পরিবর্তে স্কুল-মাদ্রাসাগুলোতে অবাধে চলছে কোচিং বাণিজ্য। বন্ধে বা ব্যবস্থা নিতে পদক্ষেপ নেই কেন জেলা প্রশাসনের এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন আরা  বলেন, কোচিং বাণিজ্য বন্ধে অবশ্যই প্রত্যেক স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে স্কুল-মাদ্রাসাগুলোতে খোঁজ নিয়ে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মোরেলগঞ্জে গরুসহ ট্রাক নদীতে

২০১১-২০১৬ | কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development: Zahidit.Com

ঘোষনাঃ
Translate »