২৫ মে ২০২২, ০৯:২৬ অপরাহ্ন

সরকারি কলেজের পদ সৃজন সমস্যা ও সমাধান

আশরাফুল ইসলাম

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এবং দেশের তৃণমূল মানুষের কাছে স্বল্পমূল্যে সরকারি শিক্ষা সুবিধা পৌঁছে দেয়া তথা বাংলাদেশ কে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত করার লক্ষ্যে (মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে দেখাতে গেলে সেদেশের মানুষ কতটা সরকারি সুবিধা ভোগী তাও দেখাতে হয়)প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্কুল ও একটি কলেজ সরকারি করণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এমন সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ শুধু তার পক্ষেই সম্ভব।এর আগে তিনি দেশের সমস্ত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো কে সরকারি করেছিলেন। তারও আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা কে সম্পূর্ণ রূপে সরকারি করেছিলেন,যা ছিলো একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পক্ষে একেবারে ই অসম্ভব। কিন্তু জাতির জনক বলেই হয়তো তিনি তা পেরেছিলেন।
অথচ এতদিন পর তারই আত্মজা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহীত এ মহান উদ্যোগ প্রথমেই বাধা প্রাপ্ত হয়। এর বিরুদ্ধে আন্দোলন ও হয়েছিল।পরবর্তীতে কলেজ সরকারি করণের আগে “শিক্ষক সরকারি করণ ২০০০বিধি” সংশোধন করে জারি হলো “২০১৮ বিধি।” এতে ক্ষুন্ন করা হলো আত্তিকৃত শিক্ষক দের অনেক খানি সম্মান, অনেক খানি সুবিধা। যা ইতোপূর্বে ২০০০ বিধিতে ছিল।যা প্রায় ৪৫ বছর ধারাবাহিক ভাবে চলে আসছিল।আমরা জানি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম দিকে মাত্র কয়েকটি কলেজ সরকারি ছিল।এখন তার সংখ্যা অনেক। সবই বেসরকারি কলেজ সরকারি করণের ফলেই এটা হয়েছিল । অথচ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার করা নতুন এ কলেজ গুলোর জন্য করতে হলো নতুন বিধি। সদ্য তালিকাভুক্ত নতুন কলেজের বিনয়ী শিক্ষক গন তাই-ই মেনে নিল।বস্তুত ২০১৮ বিধি জারী হওয়ার পর কোন শ্রেণীর সাথে আত্তি কৃত শিক্ষক দের কোন ধরনের প্রতিযোগিতা বা বিরোধ থাকার কথা নয়। সবার আন্তরিকতা থাকলে পদ সৃজনের কাজে এত দেরি হওয়ার কথা নয়। এদিকে সদ্য সরকারি হওয়া কলেজগুলো অস্তিত্বের হুমকিতে পড়েছে। একথা সবাই স্বীকার করবেন।শিক্ষক শুন্যতায় ক্লাস ঠিক মতো হচ্ছেনা।এতদিন একটি প্রতিষ্ঠান স্থবির থাকলে এটা হবেই।২০১৮ বিধি জারী হওয়ার পর শুরু হলো কলেজ সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া। বহু যাচাই-বাছাই করে প্রথমে ২৭১টি কলেজের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হলো,পরে ৩টি, ১৪টি এভাবে ৩০০ কলেজের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হলো। তার পরের কাজ উক্ত কলেজের শিক্ষক দের কিভাবে পদসৃজন ও যোগদান করানো যায় তা নিয়ে কর্মযজ্ঞ। কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতে হলো উচ্চ মহলের কর্মকর্তাদের। বিশাল কঠিন কাজ বটে। ৩/৪ বছর লাগবে শেষ করতে! কিন্তু DG কর্মকর্তারা আন্তরিক, তারা এত সময় নিতে চায়না।শুরু হলো সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিভিন্ন উপায়।সভার পরে সভা। উপায় বের হলো। প্রতি পনের দিন পর-পর কিছু কলেজের তথ্য চাওয়া হবে। যাচাই-বাছাই হবে তারপর দেখা যাবে কি করা যায়। শুরু হলো কাজ। হিসাব করে দেখা গেল, এতেও দেড়বছরে সব কাজ শেষ হবেনা। সিদ্ধান্ত হলো সমন্নিত পদ সৃজন করলে বিষয় টি হয়তো সুরাহা হতে পারে! শিক্ষক রা খুশি ই হলো বলতে গেলে।সমস্ত কলেজের তথ্য কাগজপত্র নতুন করে চাওয়া হলো।যদিও এটা তৃতীয় বারের মত দেখতে চাওয়া। প্রথমত কলেজ inspection এর সময় একবার সমস্ত কাগজের মূল copy গুলি দেখেছিলো DG প্রতিনিধিরা।দেখে report ও করেছিলেন।দ্বিতীয়ত সংশ্লিষ্ট কলেজের TNO রা এগুলো দেখলেন DG তে পুনরায় পাঠানোর আগে। এবার তৃতীয়ত খোদ DG দেখবেন। অসুবিধা নেই। কিন্তু এই তৃতীয় বার দেখানোর পিছনে যুক্তি হলো বহু কলেজের অধ্যক্ষর নিয়োগ অবৈধ, বহু কলেজের অধ্যক্ষ তার কলেজ সরকারি করণের তালিকাভুক্ত হওয়ার পরেও অনেক শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে অবৈধ ভাবে প্রচুর অর্থ হাতিয়েছেন। ঠিক, হতে পারে, এটা অসম্ভব কিছু নয়।কিন্তু এটা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষ অবশ্যই শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন এবং তাকে শাস্তি পেতেই হবে। কিন্তু কথা হচ্ছে, কেউ ইচ্ছা করলেই কি অধ্যক্ষ বা শিক্ষক হতে পারেন? কিংবা পারেন এমপিওভূক্ত হতে?নিয়োগ পেতেই তাকে DG, College ও Board প্রতিনিধির সামনে বিভিন্ন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়ে সমস্ত প্রতিযোগীর মধ্যে প্রথম হতে হয়। এক্ষেত্রে দূর্ণীতি হয়ে থাকলে সবাই সমান দোষী, নয়কি? আবার এরপর আছে এমপিও ভূক্তি,সেখানেও যদি দূর্ণীতির কথা ধরা হয় তবে কে কে সে দূর্ণীতি করলো তা আয়নার মত স্পষ্ট। সুতরাং দূর্নীতিবাজ যারা তাদের গুলো আটকে দিয়ে স্বচ্ছ নিয়োগ যারা পেয়েছে তাদের কাজগুলো তো দ্রুত করতে সমস্য হওয়ার কথা নয়।তাদের জন্য এ সময় ক্ষেপণে হয়তো DG মহোদয় বিব্রতকর ।এতে করে সমস্ত কিছুই যে নেতিবাচক এর দিকে চলে যাচ্ছে তা তিনি বোঝেন এবং সচেতন মহলও তাই মনে করে।সময় ক্ষেপণ কথাটি এখানে এলো এ কারনে যে,এর আগে যখন “সরকারের নামে সংশ্লিষ্ট কলেজের সম্পত্তি লিখে দেওয়ার সময় সৃষ্ট জটিলতা মাত্র কয়েকদিনে মধ্যে সকল মন্ত্রনালয় একসাথে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে চিঠি ইস্যু করে তা সমাধান করেছিলেন ।” পনের দিনের মধ্যে সম্পত্তি সমর্পণ সম্ভব হয়েছিল। আন্তরিকতা ছিল বলেই সেটা সম্ভব হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা কি করবেন তারাই জানেন। তবে এ গতিতে পদ-সৃজন এর কাজ এগুতে থাকলে ২/৩ বছরে ও শেষ হবেনা।বিষয়টি দ্রুত করার DG র প্রতি অনুরোধ রইলো।
বিঃদ্রঃ-কলেজে ভর্তি হতে আসা থেকে শুরু করে বেতন পরিশোধ করা প্রতিনিয়ত ছাত্র/ছাত্রী ও অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষক দের মধ্যে যে বিব্রত কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে তা যদি কেউ একবার দেখতো! ছাত্র ছাত্রী পাঠগ্রহণ এর শুরুতেই যদি শিক্ষকের প্রতি দূর্বিনীত হয়ে ওঠার সুযোগ থাকে সেখানে পাঠগ্রহণ কতটা সাবলীল হবে তা বলাই বাহুল্য! শ্রদ্ধাবোধ বিনয় অনুপস্থিত থাকলে পাঠদান পাঠগ্রহণ কি সম্ভব? শুধুমাত্র বেতন নিয়েই এ জটিলতা। শিক্ষক ছাত্রের এ দ্বন্দ্ব দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কে কোথায় নিয়ে যেতে পারে তা কি কেউ একবার ভেবে দেখবেন?

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পুরো সপ্তাহের চাকরির খবর চাকরি ডাক

ঘোষনাঃ
Translate »