Latest news

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, বন্যা আতঙ্ক

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২০ | ৬:৫৯ অপরাহ্ণ | 51 বার

জুলাই ২০২০
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« জুন    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, বন্যা আতঙ্ক

কুড়িগ্রামে প্রবাহিত নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সতর্কীকরণ পর্যায়ে রয়েছে। কয়েকদিনের অবধারিত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্রমাগতভাবে বাড়ছে পানি। ৪৮ঘণ্টার মধ্যে এসব নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে এমন আভাস কুডিগ্রাম বন্যা নিয়ন্ত্রণ সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমর, গঙ্গাধর, ফুলকুমর, ধরলা তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ হবে। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার কুড়িগ্রামে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ৩৬সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ৭সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল সরকার জানান, উজানে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত। ফলে সেখানে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল নামতে শুরু করেছে। এতে তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমর, গঙ্গাধর, ফুলকুমর নদ তীরবর্তী নীচু এলাকাগুলোতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে বলে খবর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ঠ এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমর, গঙ্গাধরসহ জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১৬টি নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি শুরু হওয়ায় নাগেশ্বরী পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ড, বেরুবাড়ী, বামনডাঙ্গা, কচাকাটা, কেদার, কালীগঞ্জ, বল্লভেরখাস, নুনখাওয়া ও নারায়নপুর ও যাত্রাপুর, সাহেবের আলগা ইউনিয়নের অন্তত ৬০টি চরের নিম্নাঞ্চলসহ নদ-নদী অববাহিকার নীচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলের উঠতি ফসল বাদাম, তিল, কাউন, পাটসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্ষেত। এতে করে কৃষকরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এছাড়াও এসব এলাকা বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন।

কুড়িগ্রামে ১৬টি নদ-নদীর ৩১৬কিলোমিটার দীর্ঘ নদী পথ। সাড়ে চার শতাধিক ছোটবড় চরাঞ্চল। ৯টি উপজেলায় ৩টি পৌরসভা, ৭৩ইউনিয়নে ২০লাখের অধিক মানুষের বসবাস। এর মধ্যে ৬০হতে ৬৫টি ইউনিয়নে ছোটবড় প্রায় সাড়ে ৪শতাধিক চরে সাড়ে ছয় শতাধিক গ্রামে চার লক্ষাধিক মানুষ বসবাস। ফলে প্রতিবছর বন্যায় আক্রান্ত হয়। আর নদ-নদীর ভাঙনে প্রতি বছরই শতশত পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। চোখের সামনেই বসতবাড়ি, বাগান ও আবাদি জমিসহ সহায় সম্বল নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া দেখতে হয় ভাঙন কবলিতদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের তেলিয়ানিরপাড় হয়ে মালিয়ানি সংযোগ যোগাযোগ রাস্তার এক শত মিটার বাঁধের ঢাল দুধকুমর নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের চর সারডোব এলাকার বাংটুর ঘাট হতে ফুলবাড়ি উপজেলার সঙ্গে সংযোগ যোগাযোগ পাকা রাস্তার ২শ মিটার বাঁধের ঢাল ধরলা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। ভুরুঙ্গামারী উপজেলার চর ধাউরারকুটি থেকে হাজীরমোড় সঙ্গে সংযোগ যোগাযোগ পাকা রাস্তার এক শত মিটার বাঁধের ঢাল দুধকুমর নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদীর স্থায়ী ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের কাঁচকোল দক্ষিণ খামার এলাকায় পিচিংসহ ৯৫মিটার ব্লক নদীতে ধসে পড়েছে এবং উলিপুর উপজেলার কাজির চরের বাঁধের ৫৫মিটার ঢাল বিলীন হয়ে গেছে।
এছাড়াও আরও রাজারহাটের ছিনাই ইউনিয়নের কালোয়ার ৪শ মিটার, কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের বাংটুর ঘাটে ৩শ মিটার, হলোখানা ইউনিয়নের চর সারডোবে ৪শ মিটার, মোগলবাসা ইউনিয়নের সিতাই ঝাড় ৩শ মিটার, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে ৩শ মিটার, মুরিয়া বাজার ২শ মিটার, লালমনিরহাট জেলার বড়বাড়িতে ১৫০মিটারসহ দুই কিলোমিটার বাঁধের অংশ ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত এসব ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ঠিক করা না হলে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের ২৮ ও ২৯তারিখ এবং জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। তখন ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী, রাজিবপুর উপজেলা ও নাগেশ্বরীর কিছু অংশ বন্যা কবলিত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে নদী ভাঙনের মাত্রা কিছুটা কমেছে। তিনি বলেন, কিছু কিছু ভাঙন কবলিত এলাকায় আমরা জরুরিভিত্তিতে কাজ অব্যাহত রেখেছি।

২০১১-২০১৬ | কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development: Zahidit.Com

ঘোষনাঃ
Translate »