Latest news

বন্দুকযুদ্ধ হলে কি পুলিশ বন্দুক ফেলে পালিয়ে আসবে, প্রশ্ন আইজিপির

বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১১:৪৭ পিএম | 200 বার

জুলাই ২০২১
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« জুন    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
বন্দুকযুদ্ধ হলে কি পুলিশ বন্দুক ফেলে পালিয়ে আসবে, প্রশ্ন আইজিপির

সুজন কৈরী:  বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের নবনির্মিত ছয়তলা জরুরি বিভাগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব বলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

ড. বেনজীর আহমেদ আরও বলেন, ‘বন্দুকযুদ্ধ হলে কি পুলিশ বন্দুক ফেলে পালিয়ে আসবে? অস্ত্রধারীরা গুলি ছুড়লে আমরা প্রয়োজনের নিরিখে জীবন রক্ষার জন্য সরকারি অস্ত্র ব্যবহার করব। সরকারি অস্ত্র লাঠি হিসেবে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়নি। লাঠি একরকম আর প্রাণঘাতী অস্ত্র আরেক রকম। সরকার যদি শুধু লাঠি দেয়, আমরা লাঠিই ব্যবহার করব’।

মঙ্গলবার কক্সবাজারের টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনজন নিহত হওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘নিহত জকির ডাকাত, ভয়াবহ ডাকাত। কক্সবাজারে গিয়ে খবর নিন। গত তিন বছরে জাকির গ্রুপের কাছ থেকে কমপক্ষে দেড় শ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। যখন সে গুলিতে মারা গেছে, তখনো তার কাছ থেকে নয়টি অস্ত্র পাওয়া গেছে। যখন এ ধরনের কোনো বিপজ্জনক আর্মস গ্যাং গুলি করবে, তখন কি আমরা শহীদ হব’? তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এলাকার মানুষ জানে জাকির ডাকাত কী জিনিস। তার হাতে কত লোক অপহৃত হয়েছেন আর কতজন মারা গেছেন। তাই যেটা (বন্দুকযুদ্ধ) হয়েছে, সেটা আমি মনে করি প্রয়োজন হলে হবে, না হলে হবে না। এখানে ঘোষণা দিয়ে চালু বা বন্ধ করার কোনো বিষয় নেই’।

আইজিপি বলেন, রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালকে (সিপিএইচ) আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে। বর্তমানে এ হাসপাতালে সব ধরনের রোগের চিকিৎসা করা হচ্ছে। এখানে হার্টের রিং পরানোর ব্যবস্থা করা হবে। আগামী বছর এ হাসপাতালে ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যাবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, এক লাখ পাঁচ হাজার বর্গফুটে নবনির্মিত এ ভবনের ফলে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ২৫০ থেকে বেড়ে ১১০০ হয়েছে। মোট জনবল ৮০০ ও চিকিৎসক রয়েছেন দেড় শতাধিক। নতুন ভবনের কারণে আইসিইউ, সিসিইউ এবং এসডিইউ সুবিধাও বৃদ্ধি পাবে।

হাসপাতালটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তরের চেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, এ হাসপাতালে ক্যান্সার ছাড়া সব ধরনের রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকছে। কয়েকটি দেশের বিখ্যাত কিছু হাসপাতালের সঙ্গে চিকিৎসা সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে। সিঙ্গাপুরের একাধিক হাসপাতালের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রয়েছে। আমরা অন্যান্য উন্নত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের সাথে এমওইউ করার পরিকল্পনা নিয়েছি। সুযোগ সাপেক্ষে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে। এখানে হার্টের রিং পরানোর ব্যবস্থা করা হবে। আগামী বছর এ হাসপাতালে ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

পুলিশ প্রধান বলেন, নতুন ভবনটি ‘জরুরি বিভাগ ভবন’ নামে পরিচিত হবে। যেখানে অত্যাধুনিক জরুরি ব্যবস্থাপনা, লাশ সংরক্ষণ, অর্থোপেডিক সার্জারি, মেডিসিন, আধুনিক ডেন্টাল চিকিৎসা, চোখ, নাক-কান-গলার সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি, কার্ডিওলজি-সিসিইউ, আইসিইউ এইসডিইউ ছাড়াও রয়েছে ক্যান্টিন ও লাইব্রেরি থাকছে। এর পর বিভাগীয় এবং জেলা হাসপাতালগুলো যেখানে আছে সেসবের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হবে। আর পুরো প্রক্রিয়াটি প্রধানমন্ত্রীর কারণেই হয়েছে। সরকার অনুমোদন করলে অবশ্যই এটি মেডিকেল কলেজ করা হবে। একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের জন্য মেডিকেল কলেজও প্রয়োজন।

সড়কে নারী ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বপালনকালে টয়লেট অসুবিধার প্রসঙ্গ টেনে বেনজির আহমেদ বলেন, তিন থেকে পাঁচ মিনিট দূরত্বে টয়লেট সুবিধা আছে এমন জায়গায় ট্রাফিকের নারী সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হচ্ছে।

চলমান করোনাকালে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের মহাকাব্যিক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, করোনা চিকিৎসায় এ হাসপাতালের সেবা সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এখানে শুধু পুলিশ সদস্যদেরই নয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ নাগরিকদেরও করোনা চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতায় সিপিএইচকে মাত্র ছয় সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়েছে। তিনি এ কাজে সহযোগিতার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

আইজিপি বলেন, কোভিড-১৯ টিকা দেয়ার ক্ষেত্রেও সিপিএইচ এগিয়ে রয়েছে। এ পর্যন্ত এ হাসপাতালে ২৮ হাজার জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ সদস্য ছাড়া সাধারণ মানুষ রয়েছেন ৩ হাজার।

আইজিপি বলেন, পুলিশ সদস্যদেরকে প্রতিনিয়ত ক্রিটিক্যাল অবস্থায় চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে পুলিশ সদস্যরা সাধারণ রোগের পাশাপাশি পাকস্থলী, কিডনি ও হার্টের অসুখসহ ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগে ভোগেন। তাদের চিকিৎসায় আমরা এ হাসপাতালে গ্লোবাল লেভেল ট্রিটমেন্ট দিতে চাই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক ঔদার্যে বিভাগীয় ও জেলা পুলিশ হাসপাতালগুলো আধুনিকায়ন এবং উন্নয়নের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ মেডিক্যাল সার্ভিস গঠন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগও নেয়ার কথাও জানান আইজিপি।

২০১১-২০১৬ | কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development: Zahidit.Com

ঘোষনাঃ
Translate »