পোল্যান্ডে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ থমকে গেছে ঘটনা তদন্তের দাবি ম্যাসবাংলা গ্রুপের

মঙ্গলবার, ০৬ এপ্রিল ২০২১ | ২:৫৬ পিএম | 289 বার

জানুয়ারি ২০২২
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« ডিসেম্বর    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
পোল্যান্ডে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ থমকে গেছে ঘটনা তদন্তের দাবি ম্যাসবাংলা গ্রুপের

বৈশ্বিক মহামারী করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হেনেছে বিশ্বব্যাপী। দেশের শ্রমবাজারেও এর প্রভাব পড়েছে আশঙ্কাজকভাবে। প্রথম ঢেউয়ে গত বছর বিদেশ থেকে ৪ লাখ ৮ হাজার ৪০৮ কর্মী দেশে ফেরত আসেন। যদিও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে করোনায় কর্মহীন হয়ে দেশে ফিরেছেন আরও বেশি প্রবাসী। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় বিদেশে শ্রমবাজার আবার সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বর্তমান অবস্থায় এ খাতের ব্যবসায়ীরা নতুন করে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। গত বছর বেশিরভাগ দেশই ব্যয়সংকোচন নীতি গ্রহণ করে। ফলে বিদেশে কর্মরত বিপুলসংখ্যক শ্রমিক চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হন। ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যেই ২ লাখ অভিবাসী শ্রমিক দেশে ফিরেছেন।পোল্যান্ডে বাংলাদেশের দূতাবাস না থাকায় গত বছরের জানুয়ারিতে ১৫ বাংলাদেশি প্রার্থীকে তার এজেন্সি থেকে নয়াদিল্লির পোল্যান্ড দূতাবাসে পাঠানো হয়। ভারতে অবস্থানকালে ওই ১৫ জন বাংলাদেশি স্থানীয় আইন অমান্য করায় রিপোর্ট যায় পোল্যান্ডে। যার কারণে পোল্যান্ডের ‘এম গ্রুপ প্লাস’ কোম্পানি ওই ১৫ জনের ভিসা সাময়িকভাবে বাতিল করে দেয়, যদিও তাদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ ছিল গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু ওই ১৫ বাংলাদেশির পোল্যান্ডের ভিসা বাতিলের পর মানবপাচারের মামলা করা হয় জামিল হোসাইনের বিরুদ্ধে। এ মামলায় তাকে এ বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তার করা হয়।
জামিল হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, তার বনানী অফিসের বাড়ির মালিকের সঙ্গে ঝামেলাকে কেন্দ্র করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে গত ২৪ মার্চ তিনি যাবতীয় নথিপত্র দাখিল করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোসহ (বিএমইটি) সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহে।
এদিকে করোনা ভাইরাসের মধ্যেই শ্রমিক রপ্তানির সুযোগ হাতছাড়া হয় ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে। একটি দুর্ঘটনার কারণে এমন সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।
বাংলাদেশে সংক্রমণের আগেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস হানা দেয়। এসব দেশে বহু শ্রমিক কাজ করতেন। ওই দেশগুলোয় গত বছরের শুরুর দিকেই লকডাউন শুরু হওয়ায় বেকায়দায় পড়েন প্রবাসী শ্রমিকরা। বিশেষ করে যারা অবৈধভাবে ছিলেন, তাদের অনেককে জোর করে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আবার বৈধ শ্রমিকদের অনেকে চাকরিচ্যুত হন।
কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও বেশিরভাগের সেটি নবায়ন করা হচ্ছে না। আবার চুক্তির মেয়াদ যাদের আছে, তাদের অনেককেই ছুটির নামে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বায়রার একাধিক সদস্য জানান, গত বছর লকডাউনের পর ফিরে আসা শ্রমিকদের অনেকে এখনো বিদেশের কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি। অবশ্য সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা শ্রমিকদের বেশিরভাগই ফিরে গেছেন। অভিবাসীদের পুনর্বাসনের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দুটি উপায়ে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে প্রবাসীদের বেসরকারি সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু)। অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা নিয়ে ২০১৬ সালের যে আন্তর্জাতিক বিধিমালা রয়েছে, সেখানে বলা আছে- যে কোনো দুর্যোগ পরিস্থিতিতে অভিবাসী শ্রমিকরা যেই দেশে অবস্থান করবেন- তাদের দায়িত্ব সে দেশের ওপরই বর্তায়। অভিবাসী গ্রহণকারী দেশগুলো সে বিধিমালারও তোয়াক্কা করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যে নতুন নতুন শ্রমবাজারও সন্ধান করছে সরকার। সরকারের সেই চেষ্টার সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই খাতের ব্যবসায়ীরাও কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে নতুন বাজার সৃষ্টির উদ্যোগ নেন। বায়রার সদস্য ও ‘মাস-বাংলা ওভারসিজ’-এর মালিক জামিল হোসাইনের দাবি, ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে তিনি জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ পান। তবে একটি ঘটনায় সেই সুযোগ আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে। জামিল হোসাইন জানান, পোল্যান্ডের একটি কোম্পানি থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বরে তিনি কিছু ওয়ার্কপারমিট ভিসা পান। কিন্তু পোল্যান্ডে বাংলাদেশের দূতাবাস না থাকায় গত বছরের জানুয়ারিতে ১৫ বাংলাদেশি প্রার্থীকে তার এজেন্সি থেকে নয়াদিল্লির পোল্যান্ড দূতাবাসে পাঠানো হয়। ভারতে অবস্থানকালে ওই ১৫ জন বাংলাদেশি স্থানীয় আইন অমান্য করায় রিপোর্ট যায় পোল্যান্ডে। যার কারণে পোল্যান্ডের ‘এম গ্রুপ প্লাস’ কোম্পানি ওই ১৫ জনের ভিসা সাময়িকভাবে বাতিল করে দেয়, যদিও তাদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ ছিল গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু ওই ১৫ বাংলাদেশির পোল্যান্ডের ভিসা বাতিলের পর মানবপাচারের মামলা করা হয় জামিল হোসাইনের বিরুদ্ধে। এ মামলায় তাকে এ বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তার করা হয়।
জামিল হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, তার বনানী অফিসের বাড়ির মালিকের সঙ্গে ঝামেলাকে কেন্দ্র করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে গত ২৪ মার্চ তিনি যাবতীয় নথিপত্র দাখিল করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোসহ (বিএমইটি) সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহে।

 

২০১১-২০১৬ | কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development: Zahidit.Com

ঘোষনাঃ
Translate »