Latest news

শুভ বর্ষ ১৪২৮ বাঙালী এমনটা কখনো দেখেনি

রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১ | ৫:৪২ পিএম | 45 বার

মে ২০২১
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« এপ্রিল    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
শুভ বর্ষ ১৪২৮ বাঙালী এমনটা কখনো দেখেনি

এম. জামান কাকা, যশোর : চিরায়ত নিয়মে নতুনকে জায়গা দিতে কালের গর্ভে হারিয়ে গেল বাংলাবর্ষ ১৪২৭। এসেছে ১৪২৮ নববর্ষ, এলো পহেলা বৈশাখ, নতুন প্রভাতের নতুন আলোয় বাঙালির নব উদ্যোমে নতুন শপথ নেয়ার দিন। এরি মধ্যে সপ্তাহ পূরতে গেল। তবে এমন নববর্ষ বাঙালী অতীতে কখনো দেখেনি। করোনার ভয়াল থাবায় তাদের বৈশাখ বরণ করা হয়ে ওঠেনি।
বাঙালি সংস্কৃতির অংশ হিসেবে এদিন আনন্দ আর উচ্ছাসে সকলেরই মুখে মুখে একই সম্ভাষণ শুভ নববর্ষ; শুভ নববর্ষ। যে নববর্ষ শুরু বৈশাখ মাসে, শেষ হয় চৈত্রে। গতবার কিছু নিয়ম মেনে যশোরে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠান হয়েছিল। এবার তাতেও বারণ ছিল বেজায়।
বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন বাঙালির অসা¤প্রদায়িক চেতনায় প্রকৃতির নিয়মে পুরাতনকে বিদায় আর নতুনকে স্বাগত জানাতে উৎসব আমেজে বাংলাবর্ষ বরণ এ মেতে ওঠে বাংলার মানুষ।
কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সেকেন্ডে ওয়েভের করাল গ্রাস মোকাবেলায় গত বছরের মত এবারো গৃহবন্দী (লকডাউন) সারাদেশের মানুষ। ফলে এবার নিরবে হয়েছে বাংলা নববর্ষ বরণ।
করোনা পরিস্থিতিতে বৃহত্তর জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে সরকার ইতোমধ্যে ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ছেলে মেয়ে পিতা-মাতা অভিভাবক, সংস্কৃতি প্রেমিক কেউই বের হতে পারেনি। সাঁজতে পারেনি তারা বাংলা সাজে। এ কষ্টের কোন ব্যাখ্যা নেই কারো কাছে। মন কাঁদে গুমরে বাঙালীর তবে মুখে কিছু বলার নেই। ক্ষমা দিও বাংলা মা আমার। তোমাকে বরণে আমার এই অপরাগতায়।
প্রজ্ঞাপনে একটানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা এবং উৎসবসহ সভা সমাবেশ জনসমাগম না করার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
তাই নতুন বছরে নতুন ভোরে নতুন সূর্য ঠিকই এসেছে। কিন্তু জমেনি না বটতলা-হাটখোলা, মাঠ প্রান্তর। হয়নি অশুভ শক্তিনাশে বর্ষবরণ-মঙ্গল শোভাযাত্রা। কবিগুরুর অভয়বাণী বুকে নিয়ে তাই ঘরে বসেই এবার গাইতে হয়েছে, এসো হে বৈশাখ এসো এসোৃ, নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়ৃ.. ..।
পহেলা বৈশাখ বাংলা ও বাঙালির সার্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসবের সেরা দিন। এ উৎসবের সাথে মিশে আছে বাংলার সুপ্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
মোঘল আমলে ১৪-১৫ শতাব্দী থেকে শুরু হয় এ উৎসব। শুরু করেন তৃতীয় মোঘল সম্রাট মুহাম্মদ আকবর (১৫৫৬-১৬০৫ খ্রিঃ)।
মোঘল আমলে কৃষকদের কাছ থেকে রাজস্ব হিসেবে আদায় করা হতো এক তৃতীয়াংশ ফসল। কিন্তু ঐ পরিমান খাজনা দেয়ার সামর্থ্য ছিল না কৃষকদের। তাই খাজনা আদায় নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসার জন্য সমগ্র রাজ্যে ফরমান জারি করা হয় যে, রাজ্যের সকল জমি জরিপ হবে। বেঁধে দেয়া হয় খাজনা পরিশোধের নির্দিষ্ট সময়সীমা। দরবারে বিশেষজ্ঞ পÐিতদের নিয়ে তৈরি করা হয় একটি অব্দ। রাজ্যের কৃষকরা নতুন অব্দের প্রথম মাস বৈশাখে জমিতে বাংলার প্রধান খাবার ধান বপন করতো। ঘরে-ঘরে রান্নার আয়োজন চলতো। সারা পাড়ায় আনন্দের ধুম পড়ে যেত।
ইতিহাস হিসেবে ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্তরা নতুন বছরের প্রথম দিনে খুলতেন হালখাতা। পুরনো হিসাব-খাতা বাদ দিয়ে নতুন হালখাতা খুলতেন। চলতো গান ও নাচের আসর। সম্রাট বাংলা ক্যালেন্ডার চালু করেন। ১৫৮৪ সালে তিনি বাংলা ক্যালেন্ডার প্রবর্তন করেন। তবে ক্যালেন্ডার বছর শুরু হয় ১৫৮৫ সাল থেকে। আর কার্যকর হয় ১৫৮৬ সাল থেকে।
গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে বছরের ১৪ বা ১৫ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালিত হয়। কিন্তু আমাদের দেশে প্রতিবছর ১৪ এপ্রিল এ উৎসব পালিত হয়ে আসছে। বাংলা একাডেমি কর্তৃক নির্ধারিত আধুনিক পঞ্জিকা অনুসারে দিনটি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। বাংলা দিনপঞ্জির সংগে হিজরী ও খ্রিস্ট্রিয় সনের মৌলিক পার্থক্য আছে। হিজরি সন চলে চাঁদের হিসেবে এবং খ্রিস্ট্রিয় সন চলে ঘড়ির হিসেবে। হিজরিতে নতুন তারিখ শুরু হয় সন্ধ্যায় নতুন চাঁদের আগমনে। ইংরেজি দিন শুরু হয় মধ্যরাতে। পহেলা বৈশাখ রাত ১২ টা থেকে শুরু না হয়ে সূর্যোদয় থেকে শুরু। এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
তবে ঐতিহ্যগতভাবে সূর্যোদয় থেকে বাংলা দিন গণনার নিয়ম আছে।
কিন্তু ১৪০২ সনের পহেলা বৈশাখ থেকে বাংলা একাডেমি এ নিয়ম বাতিল করে রাত ১২টা থেকে করে।
আন্তর্জাতিক রীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এ নিয়ম চালু করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর উৎসবের আমেজে দিনটি পালিত হয়ে আসছে। বাংলার লোকসংস্কৃতির অংশ নববর্ষের এ উৎসব বা মেলা পরিণত হয়েছে জাতীয় উৎসবে।
প্রথা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যে এ উৎসবের মিলন মেলায় প্রাণে- প্রাণে স¤প্রীতির বন্ধন তৈরি হয়।
এদিন সারা বিশ্বের বাঙালীরা মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজনে মেতে উঠে। যে শোভাযাত্রা শুরু হয়েছিল যশোর থেকেই। বাংলা নববর্ষে উৎসব প্রকাশের অন্যতম অনুসঙ্গ যশোরের মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন বিশ্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্যের অংশ।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আবেদনে ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো বাংলাদেশের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে তাদের ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে এই শোভাযাত্রা এখন কেবল বর্ষবরণ উৎসবের অনুষঙ্গই নয়, এর মধ্য দিয়ে বাঙালি সংস্কৃতিকে মেলে ধরার পাশাপাশি সমাজে অবক্ষয় থেকে মুক্তি, পেছনের দিকে হাঁটা প্রতিরোধের আহŸানও জানানো হয়।

মোরেলগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্রী নিয়ে অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ নিন্দা জানিয়েছে ভূক্তভোগী পরিবার

২০১১-২০১৬ | কোনো সংবাদ বা ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করবেন না

Development: Zahidit.Com

ঘোষনাঃ
Translate »